Articles
এআরইউ গঠনের জন্য ওআইসি কতৃক রোহিঙ্গা কনভেনশন অনুষ্ঠিত।।
জেদ্দা,কেএসএ।।ওআইসি(ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা) এর জেদ্দা সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক কনভেনশনে সিনিয়র রোহিঙ্গা নেতাদের নিয়ে এআরইউ(আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন) গঠনের সিদ্বান্ত গৃহীত হয়।ওআইসি এর অফিসিয়াল সাইট এবং আর্ন্তজাতিক ইসলামিক সংবাদ সংস্থা থেকে জানা যায়,এই সংগঠনের কাজ হবে সাধারন রোহিঙ্গাদের শান্তি,উন্নতি নিশ্চিত করা ও তাদের আশাভরসার কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজয়েছেন।

ওআইসি এর সংখ্যালঘু মুসলিম বিভাগের পরিচালক তালাল দাউস বলেছেন,“ওআইসি এর মহাসচিব একমেলেদ্দিন ইহসানু সমস্ত মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।ইউরো-বার্মা অফিস এবং এআরইউ এর মধ্যেকার মিটিং যা ওআইসি এর সদরদপ্তরে গত ৩০ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে তার উপর আলোকপাত করে মহাসচিব এ ডাক দিয়েছেন”।
২০১১ সালের তাজিকিস্তানে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিল বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবের সূত্র ধরে এই মহাসচিব এই আহবান জানান।
“[কাউন্সিল] মহাসচিব এর রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংগঠনসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি কাঠামোতে আনার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন,এ ছাড়াও মহাসচিব এর এই সমস্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখতে বলেছেন”।
সম্মানিত মহাসচিব একমেলেদ্দিন ইহসানু এর পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১০ এর ৮ ও ৯ জুন সিনিয়র রোহিঙ্গা নেতাদের কতৃক সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে,২০১১ এর মে ৩০ ও ৩১ তারিখে ওআইসি,ইবিও এবং সিনিয়র রোহিঙ্গা নেতাদের সমন্বয়ে এই যৌথ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
এআরইউ ওআইসি মহাসচিব এর নিকট আহবান জানিয়েছে যাতে তাদেরকে রোহিংঙাদের প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ওআইসি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মিস্টার তালাল দাউস ওআইসি মহাসচিব এর প্রতিনিধিত্ব করেন,ইবিইউ এর পক্ষে ছিলেন মিঃ হাং ইউয়াঙ্গে।
এই কনভেনশন শেষে যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনসাধারন যে সমস্ত সমস্যা মুখোমুখি হন তা দূর করার নিমিত্তে এআরইউ প্রতিষ্ঠার কথা জানানো হয়,
পচিশটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন সংস্থাটি অখন্ড আরাকান রাষ্ট্র, শান্তিপূর্ন সহাবস্থান,গনতন্ত্র,মানবাধিকার ও ফেডারালিসম এই মূলনীতি এর ভিত্তি করে তৈরী।
এই কনভেনশন এআরইউ এর কার্যক্রম দেখাশোনা করার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ জনের একটি পরিষদ গঠন করে।
এআরইউ একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে আমেরিকাতে নিবন্ধন করবে।

এছাড়া ডঃ ওয়াকার উদ্দিনকে আহবায়ক করে একটি সচিবালয় গঠন করেছে যার সময়কাল ধরা হয়েছে ১৮ মাস।এরপর প্রতিবছর বার্ষিক সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হবে।কাউন্সিল দশজন সদস্যরা হলেন, আবুল ফয়েজ জিলানী(বাংলাদেশ),ইমাম আহমেদ(কে এস এ ),কো কো লিন(মোহাম্মদ কলিম) (বাংলাদেশ),ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস (বাংলাদেশ),মিঃ নুরুল ইসলাম(ইউকে),উস্তাজ সেলিম উল্লাহ(কে এস এ),মিঃ রেজা উদ্দিন (ইউএসএ),মিঃ সায়েদ হুসেন(নরওয়ে),মিঃ যাউ মিন হুতুট(জাপান) এবং ডঃ মুহাম্মদ ইউপ হান(তুর্কি)।
এ ছাড়া বিভিন্ন কাজ দেখাশোনার জন্য ১৮ মাসের জন্য নিম্নের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ডঃ মুহাম্মদ আলী(ইউ এ ই) (ফান্ডরেইজিং),নেজাম(রণি),(কেএসএ
সাংস্কৃতিক),স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা,আব্দুল হামিদ,(মালেয়শিয়া, শরনার্থী সমস্যা), এবং নুরুল ইসলাম (বাংলাদেশ ,তথ্য ও গন যোগাযোগ)।
এছাড়া এই কনভেনশন একটি চার্টার তৈরী এর জন্য বলেছেন যেটি ডিরেক্ট্রর জেনারেল,চার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ,মিঃ যাউ মিন হতুট, মিঃ মং তুন কিন।
কংগ্রেস প্রথম অধিবেশনে তা পর্যালোচনা করবেন এবং অনুমোদন করবেন।
কনভেনশন এ ছাড়াও একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবেন যেটা চার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ডঃ ওয়াকার উদ্দিন সদস্য নির্বাচন করবেন এবং কংগ্রেস এ অনুমোদন এর জন্য পাঠানো হবে।
অংশগ্রহনকারীরা ওআইসি এর মাননীয়ু মহাসচিব,মুসলিম সংখ্যালগু সংস্থা এবং মিঃ হারন ইয়াওঙ্গে এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও প্রশংসা করেন এই রূপ একটি ঐতিহাসিক কনভেনশন আয়োজন এর জন্য যা রোহিঙ্গা জনসাধারন এর শান্তি ,আশা আকাঙ্খা এর প্রতিফলন ঘটিয়েছে।


