Monday, 17 June 2019

 

দ্যা আরাকান প্রজেক্ট

প্রেস রিলিজ
মিয়ানমার কালোতালিকাভুক্ত রোহিঙা শিশুঃআরেক ধরনের বৈষম্য

জেনেভা,১৯ জানুয়ারী ২০১২

বার্মিজ সরকার তাদের নির্যাতনের অংশ হিসেবে রোহিঙা শিশুদের কালো তালিকাভুক্ত করছে।ইউএনকমিটি ফর চিলড্রেন রাইটস(সিআরসি) এর সাথে বৈঠকে আরাকান প্রজেক্ট যা রোহিঙা

 

শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য গঠিত তারা এ মন্তব্য করে।

 

গত পাঁচ মাস ধরে মিয়ানমার সরকার রাজনীতিতে সংস্কার আনার কথা বললেও সংখ্যালঘুদের প্রতি নির্যাতন তারা বন্ধ করছে না বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন রোধ ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের কথা

বলে তারা চলাফেরার বাধা সৃষ্টি করছে এবং আনুষ্ঠানিক বিয়ের জন্য তারা ঘুষ খুজে এবং অনানুষ্ঠানিক বিয়ে (তাদের মতে) স্বামী স্ত্রী ১০ বছর পর্যন্ত জেলের  সম্মুখীন হতে পারেন।

সিআরসি এর কাছে প্রেরিত একটি রিপোর্টএ আরাকান প্রজেক্ট উল্লেখ করেছে কিভাবে মিয়ানমার সরকার  রোহিঙ্গা শিশুদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।এটা ধারনা করা হয় প্রায় ৪০০০০ রোহিঙ্গা শিশু

অনিবন্ধিত ও তাদের কাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।যেহেতু তাদের নাম নিবন্ধিত নয় তারা তাই স্কুল এ যেতে পারে না এবং তারা চলাফেরার অনুমতিও পান না,ভবিষ্যতে হয়ত তারা বিয়েও করতে

পারবে না।উল্লেখ্য গত দুই মাস এ কতৃপক্ষ এ সমস্ত শিশুদের নিবন্ধনের কথা বললেও অভিভাবকরা ভয় পাচ্ছেন হয়তবা এ জন্য তারা শাস্তির মুখোমুখি হবে।

নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিশূরাও যে ঠিক ভাল অবস্থায় আছে তা বলা যাবে না ,সব রোহিঙা শিশূরাই শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হন এবং তারা স্বাস্থ্য সুবিধা খাবার পান না,আর স্বাক্ষরতার হার মাত্র

২০ শতয়াংশ এছাড়া তারা বিভিন্ন অসুখের সম্মুখীন হচ্ছে এছাড়া তাদের জোরপূর্বক শ্রমের মুখোমুখী করা হচ্ছে যার ফলে তারা স্কুলে যেতে পারছেন না।

১২ বছরের রফিক জানায় যে,বার্মাতে তারা কোন স্বাধীনতার স্বাদ পায় না তারা একই গ্রামের বাইরে আত্নীয় স্বজনদের সাথে কন পাস ছাড়া যেতে পারে না এবং নিজ গ্রামে অনেকটা কয়েদির মত তাদের

থাকতে হয়।এছাড়া করিম নামের আরেকজন বলে যে তাদের স্কুলে যাওয়া হয় না যখন তাদের জোরপুর্বক শ্রম দিতে হয় রাস্তা তৈরীর কাজে।

রোহিঙা শিশুরা কতৃপক্ষের হাতে যাবতীয় নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে এছাড়া সরকারের নীতি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্তরায় হয়ে আছে বলে জানান ক্রিস লেওয়া যিনি আরাকান প্রজেক্টের

পরিচালক।

মিয়ানমার সরকার সিআরসির কাছে প্রেরিত রিপোর্টে রোহিঙাদের কথা উল্লেখ করে নি এবং ২০০৪ সালে দেওয়া  সিআরসি এর সুপারিশ গুলো বাস্তবায়ন করে নি

 

এছাড়া তাদের নীতির বর্হিভুত হওয়ার কারণে রোহিঙ্গারা মনোবল হারিয়ে ফেলেছে এবং রোহিঙ্গা বার্মা থেকে শরনার্থি হিসেবে পালিয়ে যাচ্ছে পাশের দেশসমূহে ।

মায়ানমার সরকার এর উচিত সিআরসি এর সুপারিশ মেনে কাজ করা ও রোহিঙ্গাদের প্রতি সব নির্যাতনমূল্ক নীতি পরিহার করা।

মূল রিপোর্টের  লিঙ্ক http://www.burmalibrary.org/docs12/AP-CRCMyanmar-12-01.pdf