আরাকান রোহিঙা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন

আরাকান বার্মা


প্রেস বিজ্ঞপ্তি
(১২ জানুয়ারী,২০১২)


গত ৫ জানুয়ারী ২০১২ তারিখে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বার্মা সফর করেন এর পূর্বে গত ৩০ নভেম্বর ২০১১ হতে দুইদিন
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিন্টন বার্মা সফর করেন।এটা আশার কথা যে তাদের সফরের পর থিন সেন এর সরকার বার্মাতে সংস্কার কার্যক্রম
শুরু করেছে এবং তারা আরো বেশী সংস্কার এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ব্রিটিশ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় তাদের পৃথক সফরে অং সান সুকি ও আঞ্চলিক নেতাদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিরাও
ছিলেন ,তারা উ থিন সেন এর সরকারকে এই সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ও সমস্ত রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে অনুরোধ করেন,এছাড়া তারা আশা প্রকাশ করেন যে
সরকার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সংসদ এর উপ নির্বাচন আয়োজন করবে এবং তারা এটাও আশা করছেন থিন সেন সরকার জাতিগত দাঙ্গা বন্ধ করতে কার্যকর
ব্যবস্থা নিবেন।তাদের সফর ও সরকারের সংস্কার নীতি বার্মিজ সাধারন জনগণের চোখে প্রকৃত গনতন্ত্রের আশার প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
উভয় মন্ত্রী বার্মার মানবাধিকার নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন যে,রোহিঙ্গাদের মত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীরা নাগরিক ও রাজ
নৈতিক অধিকার থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে।তার এই বক্তব্যে রোহিঙ্গা ও রোহিঙ্গা সংগঠনসমূহ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।
রোহিঙ্গারা আরাকান রাজ্যে সুপ্রাচীনকাল হতে বসবাস করে আসছে এবং তারা ব্রিটিশ কলোনিয়াল যুগ(১৯৩৫-১৯৪৮) ও এর পরবর্তী সকল নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছে
যার মধ্যে গনতান্ত্রিক যুগ(১৯৪৮-৬২),বিএসপিপি এর সময়কাল(১৯৭৪-৮৮) এস্লরকের অধীনে ১৯৯০ ও এসপিডিসি এর অধীনে ২০১০ নির্বাচন ছিল,এছাড়া তারা
এর নির্বাচনও ছিল।এছাড়া তারা ২০০৮ সালের সংবিধান পরিবর্তনের জন্য আয়োজিত ভোটেও অংশ নেই এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও সংসদ এ আছেন।
কিন্তু তাদের বিরূদ্ধে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন এবং বার্মাতে যারা আছেন তারা নিজ মাতৃভূমিতে
থেকেও ভিনদেশীদের মত জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বার্মিজ মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনের জন্য নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি টমাস অজি কুইনটিনা বলেন যে,এ রোহিঙ্গারা যুগ যুগ ধরে বার্মাতে বুসবাস করে আসছে তারপরেও
তাদের কোন রাষ্ট্রীয় পরিচয় নেই,এবং সরকার তাদেরকে বার্মার জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে গণণা করে না,এবং বার্মিজ সরকারের হাতে তারা নির্যাতনের মুখোমুখী হয়ে আসছে,সরকার
তাদের স্বীকৃতি না দিলেও তাদেরকে সরকার ভোট ও গণভোটে অংশগ্রহন করার অনুমতি দেয় এবং এতে কি প্রমানিত হয় না যে তারা বার্মার একটি অংশ?তার পরেও সরকার
তাদেরকে যাবতীয় নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্ছিত করছে।তাদেরকে যদি ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয় তাহলে বাকি অধিকারগুলোও দেওয়া উচিত
তাই নয় কি?কিন্তু কেন তাদেরকে এসব দেওয়া হচ্ছে না?
আমরা উ থিন সেন সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে তারা রোহিঙাদের মানবাধিকার ফিরিয়ে দেন এবং তাদেরকে যাবতীয় নাগরিক সুযোগ সুবিধা ও রাজনৈতিক অধিকার
ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং রোহিঙ্গাদের সাথে যাতে তারা পশূর ন্যায় ব্যবহার না করে।আমরা আশা করছি ইউএন,ওআইসি,ইইউ,আসিয়ান,ইউএস ও ইউকে ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ
ও এনজিওরা তাদের যথাযথ চেষ্টার মাধ্যমে বার্মিজ সরকারকে এ সমস্ত ব্যবস্থা নিতে চাপ প্রয়োগ করবে।
আরো তথ্যের জন্য
নুরুল ইসলাম    +44-7947854652
আমান উল্লাহ    +880-1558486910