Monday, 19 August 2019

মংডূ,আরাকান। কতৃপক্ষ আরো অনেক নিরাপত্তা বাহিনী- লুন্টিন, পুলিশ ও আর্মিকে সংগ্রহকারীদের সাথে রোহিঙ্গা গ্রামসমূহে আদমশুমারীর
জন্য পাঠাচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের হুমকি প্রদান করছে যাতে তারা আদমশুমারী ফর্মে বাঙালী হিসেবে নিবন্ধন করে, বলে একজন মানবাধিকার
পর্যবেক্ষক হালিম, যিনি বুথিদং এর বাসিন্দা।

যখন আদমশুমারী সংগ্রহকারী দল- সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার- তাদের সাথে আটজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ রোহিঙ্গা ঘরে যান। রোহিঙ্গা পরিবাররা
ভয় পেয়ে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঙালী বলতে বাধ্য করতে চাচ্ছেন আদমশুমারীতে। রোহিঙ্গা পরিবাররা আদমশুমারী কার্যক্রমে অংশ নিবে না
যদি না তাদের জাতীয়তা হিসেবে রোহিঙা এবং ধর্ম হিসেবে ইসলাম লেখা না হয়।
সাইনা বিবি যিনি সেজার গ্রামের বাসিন্দা তিনি বলেন,আজ সকালে ৮ জন নিরাপত্তা বাহিনী সদস্য ও ৪ জন আদমশুমারী কর্মকর্তা তার ঘরে যান এবং
 আদমশুমারীতে যোগ দিতে বলেন, কিন্তু তিনি বলেন যদি রোহিঙ্গা ব্যবহার করতে দেওয়া না হয় তবে তারা আদমশুমারীতে যোগ দিবেন না।
একইভাবে উক্ত দল এক নম্বর ওয়ার্ডে আদমশুমারীর জন্য গেলে রোহিঙ্গা পরিবাররা অংশ নিতে অনাগ্রহ জানায় যদি জাতি হিসেবে রোহিঙ্গা ও
ইসলামকে ধর্ম হিসেবে ৯১৪ কোড যোগ করা না হয় বলে জানান এক নং ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা।
আদমশুমারী দল বলেছে তারা কেবল বাঙালী বললেই রোহিঙ্গাদের নাম লিপিবদ্ধ করবে, আজেরা বিবি নামের একজন মংডুর বাসিন্দা জানান ,"
আপনারা আমাদের কালা,অবৈধ অভিবাসী ও বাঙ্গালী হিসেবে ডাকেন, যদি আমাদের রোহিঙ্গা হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে দেওয়া হয় তবেই আমরা আদম
শুমারীতে যোগ দিব।
অন্যদিকে আদমশূমারী দলটি নিরাপত্তা বাহিনীদের সাথে থেই চং(বালুখালী), ফুরবেতচং(ফাউল খালি) এবং ওয়া পিন গ্রামে যান যেখানে তারা যথাক্রমে
১৩,১০ ও ৫টি ঘর পরিদর্শন করেন। যখন রোহিঙ্গা পরিবাররা রোহিঙ্গা হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে বলে তখন উক্ত দল আদমশুমারী না করেই ফেরত যায়।
বুতিদং এ নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের মত দরজা ধাক্কা, নাম্বার প্লেট তুলে ও বাজে শব্দ ব্যবহার করছে যখন তাপাতং, গদং পিন এর বাসিন্দারা আদমশূমারীতে
যোগ দিবে না বলে জানায় বলে জানান আনোয়ার নামের একজন গ্রামবাসী।
কতৃপক্ষ ও রাখাইন সম্প্রদায় সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে মংডু,বুতিদং, রতিদং, আকিয়াব, ম্রোহং,কায়ক্তোতে আদমশুমারী হতে না পারে।
আজকে জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ড বিবৃতি দিয়েছে যেখানে এটি উল্লেখ কর হয়েছে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তাবাদ হিসবে পরিচিতি না দেওয়ার ব্যাপারটা।
২০১৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী , সরকার বক্তব্য দিয়েছে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে না এবং আর্ন্তজাতিক আদমশূমারীর নীতি অনুযায়ী কার্যক্রম
পরিচালনা করবে।  এটিতে তারা রাজী হয়েছে  যারা যে জাতিস্বত্তার অধীনে তাদের সে সে জাতিস্বত্তা দিতে পারবে।কেউ জোর করতে পারবে না, তবে
আদমশূমারী শুরু হবার সময় কতৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যারা তাদের জাতিস্বত্তা রোহিঙ্গা দিবে তারা আদমশুমারীতে অংশ নিতে পারবে না।